ময়মনসিংহে প্রবাসফেরত কৃষকের নতুন পথ: মাশরুম চাষে সম্ভাবনা
- আপডেট সময় : ০৪:১১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
- / 86
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাটাজোর মুচিরা গ্রামের গিলাচালা এলাকার বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন দীর্ঘ ২৫ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০২২ সালে দেশে ফিরে আসেন। দেশ প্রত্যাবর্তনের পর তিনি পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন।
প্রথমে ৫০ শতাংশ জমিতে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেছিলেন, কিন্তু ইউটিউবের ভুল পদ্ধতির কারণে সাফল্য পাননি। পরে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে কৃষিকাজে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। এরপর ৯০ শতাংশ জমি ভাড়া নিয়ে সিডলেজ লেবুর বাগান তৈরি করেন, তবে সেখানেও আশানুরূপ ফলন হয়নি। পরে নিজের ৮০ শতাংশ জমিতে কলা চাষ শুরু করলে ধীরে ধীরে সফলতার মুখ দেখেন।
এরপর আশরাফের মনোযোগ আকর্ষণ করে মাশরুম চাষ। প্রবাস জীবনে মাশরুমের সঙ্গে পরিচিত থাকা এবং স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তায় তিনি ঢাকার সাভারে অবস্থিত মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় ১০ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে বাড়িতেই মাশরুম চাষ শুরু করেন আশরাফ উদ্দিন। তিন মাসে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মাশরুম বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, “প্রবাস জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এখন মাশরুম চাষের মাধ্যমে জীবনের কষ্ট দূর করতে চাই এবং ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখছি।”
তিনি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে গরু পালন, কলা চাষসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্ত্রী হামিদা আক্তার এবং দুই ছেলে হাসান ও হুসাইন তার পাশে থাকেন।
বাটাজোর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদ্দাম কাজী বলেন, “মাশরুম সহজে চাষযোগ্য, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং নিরাপদ। হোটেল-রেস্টুরেন্টে এর ব্যবহার বাড়ছে, তাই শীঘ্রই সারাদেশে জনপ্রিয় হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান জানান, “কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আশরাফকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। মাশরুমের বাজারজাতকরণ নিয়েও আমরা কাজ করছি।”




















