ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগী, ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:২১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / 80
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ও রাতে তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১২ দিনে হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ৫ শিশুর মৃত্যু হলো।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার আয়নাল হকের ৬ মাস বয়সী ছেলে নুরুন্নবীর মৃত্যু হয়। একই দিন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সে মারা যায়।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরগোবদিয়া গ্রামের আবদুর রহিমের ৭ মাস বয়সী ছেলে লিয়ন ২৭ মার্চ দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শিশুর বাবা আবদুর রহিম জানান, ঈদের আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার ছেলে কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। পরে বাড়িতে নেওয়ার পর হাম রোগে আক্রান্ত হলে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে ৬৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত নতুন করে আরও ৩ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৪ মার্চ হাসপাতাল প্রশাসন তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে। শিশু ওয়ার্ডে হাম আক্রান্তদের জন্য ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে তিনটি আলাদা কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি কক্ষে ১০টি করে শয্যা রয়েছে।

তবে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় এসব কক্ষেও জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি, কথা বলা কিংবা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল টিমের ফোকাল পার্সন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা জানান, “হাম আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ শিশু জ্বর ও নিউমোনিয়াসহ জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ময়মনসিংহে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগী, ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৯:২১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ও রাতে তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১২ দিনে হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ৫ শিশুর মৃত্যু হলো।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার আয়নাল হকের ৬ মাস বয়সী ছেলে নুরুন্নবীর মৃত্যু হয়। একই দিন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সে মারা যায়।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরগোবদিয়া গ্রামের আবদুর রহিমের ৭ মাস বয়সী ছেলে লিয়ন ২৭ মার্চ দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শিশুর বাবা আবদুর রহিম জানান, ঈদের আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার ছেলে কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। পরে বাড়িতে নেওয়ার পর হাম রোগে আক্রান্ত হলে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে ৬৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত নতুন করে আরও ৩ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৪ মার্চ হাসপাতাল প্রশাসন তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে। শিশু ওয়ার্ডে হাম আক্রান্তদের জন্য ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে তিনটি আলাদা কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি কক্ষে ১০টি করে শয্যা রয়েছে।

তবে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় এসব কক্ষেও জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি, কথা বলা কিংবা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল টিমের ফোকাল পার্সন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা জানান, “হাম আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ শিশু জ্বর ও নিউমোনিয়াসহ জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”