ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ লঙ্ঘন, ক্ষোভ ও বিতর্ক সৃষ্টি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / 73
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ | ২৭মার্চ ২০২৬

ময়মনসিংহে রাষ্ট্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ (রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম) লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রশাসনকে ঘিরে সমালোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মহান শহীদ দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি) এবং মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে প্রটোকল ভঙ্গের ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।


বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে নগরীর পাটগুদাম জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পূর্বনির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী পুষ্পস্তবক অর্পণের ক্রমে প্রথমে বিভাগীয় কমিশনারের নাম রাখা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নাম স্থান পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এমপি ও সিটি প্রশাসককে একসঙ্গে ডেকে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করানো হয়, যা প্রটোকল অনুযায়ী সঙ্গত নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ ঘটনায় অনুষ্ঠানস্থলেই উপস্থিত সুধীজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে অসন্তোষ ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক আমানুল্লাহ আকন্দ জাহাঙ্গীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ময়মনসিংহ প্রশাসনে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। বারবার অবহিত করার পরও প্রতিকার না পাওয়ায় একই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “প্রশাসনের একাংশের মধ্যে অতীতের আধিপত্যবাদী মানসিকতা এখনো রয়ে গেছে, যার ফলে প্রটোকলের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না।”

অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি নগরীর টাউন হল মাঠে আয়োজিত কেন্দ্রীয় শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানেও একই ধরনের প্রটোকল লঙ্ঘন ঘটে। মঞ্চ থেকে ঘোষণায় বিভাগীয় কমিশনারের নাম প্রথমে এবং সংসদ সদস্যের নাম পরে ঘোষণা করা হয়। একইভাবে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পদমর্যাদার ক্রম অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ না করে কেবল পদবি ব্যবহার করা হয়েছে এবং একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তার নামের আগে ‘মান্যবর’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত।

সংশোধিত গেজেট এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পদমর্যাদাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ বাধ্যতামূলক। সেই অনুযায়ী—
প্রতিমন্ত্রী ও সিটি কর্পোরেশন /জেলা পরিষদ প্রশাসক (মর্যাদাক্রম ১৫)
সংসদ সদস্য (মর্যাদাক্রম ১৭)
বিভাগীয় কমিশনার (মর্যাদাক্রম ২১)
জেলা প্রশাসক (মর্যাদাক্রম ২৫)

এই তালিকা অনুযায়ী সংসদ সদস্যের অবস্থান প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপরে। ফলে উচ্চতর মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আগে রেখে নিম্নক্রমের কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া সরাসরি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল লঙ্ঘনের শামিল।

সমাজকর্মী ইফতেখারুল আলম পাবেল বলেন, “প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা নিজেরাই যদি রাষ্ট্রীয় নীতিমালা লঙ্ঘন করেন, তাহলে রাষ্ট্রযন্ত্রের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। এই প্রটোকল বিশৃঙ্খলা বন্ধ হওয়া জরুরি।”

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরাও এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেকেই লিখেছেন তারা মনে করছেন, প্রশাসনের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদা খাটো করার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের দাবি, অবিলম্বে এই ধরনের প্রটোকল লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গেজেট অনুযায়ী পদমর্যাদার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের সম্মান রক্ষা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ময়মনসিংহে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ লঙ্ঘন, ক্ষোভ ও বিতর্ক সৃষ্টি

আপডেট সময় : ১২:০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ | ২৭মার্চ ২০২৬

ময়মনসিংহে রাষ্ট্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ (রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম) লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রশাসনকে ঘিরে সমালোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মহান শহীদ দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি) এবং মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে প্রটোকল ভঙ্গের ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।


বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে নগরীর পাটগুদাম জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পূর্বনির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী পুষ্পস্তবক অর্পণের ক্রমে প্রথমে বিভাগীয় কমিশনারের নাম রাখা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নাম স্থান পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এমপি ও সিটি প্রশাসককে একসঙ্গে ডেকে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করানো হয়, যা প্রটোকল অনুযায়ী সঙ্গত নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ ঘটনায় অনুষ্ঠানস্থলেই উপস্থিত সুধীজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে অসন্তোষ ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক আমানুল্লাহ আকন্দ জাহাঙ্গীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ময়মনসিংহ প্রশাসনে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। বারবার অবহিত করার পরও প্রতিকার না পাওয়ায় একই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “প্রশাসনের একাংশের মধ্যে অতীতের আধিপত্যবাদী মানসিকতা এখনো রয়ে গেছে, যার ফলে প্রটোকলের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না।”

অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি নগরীর টাউন হল মাঠে আয়োজিত কেন্দ্রীয় শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানেও একই ধরনের প্রটোকল লঙ্ঘন ঘটে। মঞ্চ থেকে ঘোষণায় বিভাগীয় কমিশনারের নাম প্রথমে এবং সংসদ সদস্যের নাম পরে ঘোষণা করা হয়। একইভাবে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পদমর্যাদার ক্রম অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ না করে কেবল পদবি ব্যবহার করা হয়েছে এবং একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তার নামের আগে ‘মান্যবর’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত।

সংশোধিত গেজেট এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পদমর্যাদাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ বাধ্যতামূলক। সেই অনুযায়ী—
প্রতিমন্ত্রী ও সিটি কর্পোরেশন /জেলা পরিষদ প্রশাসক (মর্যাদাক্রম ১৫)
সংসদ সদস্য (মর্যাদাক্রম ১৭)
বিভাগীয় কমিশনার (মর্যাদাক্রম ২১)
জেলা প্রশাসক (মর্যাদাক্রম ২৫)

এই তালিকা অনুযায়ী সংসদ সদস্যের অবস্থান প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপরে। ফলে উচ্চতর মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আগে রেখে নিম্নক্রমের কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া সরাসরি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল লঙ্ঘনের শামিল।

সমাজকর্মী ইফতেখারুল আলম পাবেল বলেন, “প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা নিজেরাই যদি রাষ্ট্রীয় নীতিমালা লঙ্ঘন করেন, তাহলে রাষ্ট্রযন্ত্রের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। এই প্রটোকল বিশৃঙ্খলা বন্ধ হওয়া জরুরি।”

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরাও এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেকেই লিখেছেন তারা মনে করছেন, প্রশাসনের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদা খাটো করার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের দাবি, অবিলম্বে এই ধরনের প্রটোকল লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গেজেট অনুযায়ী পদমর্যাদার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের সম্মান রক্ষা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।