ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে দুইজন মারধরের শিকার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • / 119
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতাসহ দুজন মারধর ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। পরে তাদের টেনে–হিঁচড়ে থানার ভেতরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

শনিবার (৭ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে শাহবাগ থানার ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর কর্মসূচির ডাক দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ কয়েকজন। একই দিন বিকেলে চানখারপুল মোড়ে ভাষণ বাজানোর ঘটনায় দুজনকে আটকের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি রিকশায় মাইক বসিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করা হয়। কিছু সময় পর রাত ১০টার দিকে কয়েকজন এসে তাদের মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে ফেলে। এতে আয়োজকদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে আয়োজকরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের একটি রিকশা টেনে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। ইমির সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে তাকে টেনে–হিঁচড়ে থানার ফটকে নিয়ে মারধর করা হয়। একই সময়ে মারধরের শিকার হন ইমিও।

পরবর্তীতে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা ইমি ও মামুনকে ধরে টেনে–হিঁচড়ে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে সহ–সভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী ছিলেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।

ঘটনার বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, “ঘটনাটি আমরা দেখছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে ইমি ও মামুনকে আটক রাখা হবে কিনা—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ বলেন, “ইমি ও তার সহযোগীরা ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তারা ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। এজন্য আমরা তাকে রিকশাসহ থানায় নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।”

এর আগে একই দিন দুপুরে চানখারপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে দুজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের একজন আসিফ আহমেদ, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে ঢাকার মগবাজার এলাকায় চার তরুণ–তরুণী ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে পদযাত্রা করলেও তারা কোনো বাধার মুখে পড়েননি বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দিনটি ঘিরে আগের মতো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে দুইজন মারধরের শিকার

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতাসহ দুজন মারধর ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। পরে তাদের টেনে–হিঁচড়ে থানার ভেতরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

শনিবার (৭ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে শাহবাগ থানার ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর কর্মসূচির ডাক দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ কয়েকজন। একই দিন বিকেলে চানখারপুল মোড়ে ভাষণ বাজানোর ঘটনায় দুজনকে আটকের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি রিকশায় মাইক বসিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করা হয়। কিছু সময় পর রাত ১০টার দিকে কয়েকজন এসে তাদের মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে ফেলে। এতে আয়োজকদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে আয়োজকরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের একটি রিকশা টেনে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। ইমির সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে তাকে টেনে–হিঁচড়ে থানার ফটকে নিয়ে মারধর করা হয়। একই সময়ে মারধরের শিকার হন ইমিও।

পরবর্তীতে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা ইমি ও মামুনকে ধরে টেনে–হিঁচড়ে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে সহ–সভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী ছিলেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।

ঘটনার বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, “ঘটনাটি আমরা দেখছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে ইমি ও মামুনকে আটক রাখা হবে কিনা—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ বলেন, “ইমি ও তার সহযোগীরা ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তারা ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। এজন্য আমরা তাকে রিকশাসহ থানায় নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।”

এর আগে একই দিন দুপুরে চানখারপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে দুজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের একজন আসিফ আহমেদ, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে ঢাকার মগবাজার এলাকায় চার তরুণ–তরুণী ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে পদযাত্রা করলেও তারা কোনো বাধার মুখে পড়েননি বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দিনটি ঘিরে আগের মতো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।