সরকারি ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের দাবি জোরদারের জন্য ময়মনসিংহে স্মারকলিপি প্রদান ও প্রচারণা কর্মসূচি
- আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / 53
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ | ১২ মে
ময়মনসিংহে সরকারি ভবনগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) স্থাপনের উদ্যোগ জোরদারের দাবিতে প্রচারণা কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। পরিবেশ ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো এ কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
সোমবার নগরীতে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, ক্লিন (কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অব্যবহৃত ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে রুফটপ সোলার স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে, যা সময়োপযোগী উদ্যোগ। জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফইডি), ময়মনসিংহের সম্পাদক খায়রুল আলম তুহিন বলেন, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে ব্যয় কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ইমন সরকার বলেন, রুফটপ সোলার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের বিস্তৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এসব স্থানের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে এবং সঞ্চালন ক্ষতিও কমবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বাড়তি চাহিদা মেটাতে রুফটপ সোলার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় নেট মিটারিং ব্যবস্থা আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার পাশাপাশি প্রশাসনিক সহায়তা ও নীতিগত প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানান বক্তারা।
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ময়মনসিংহের চেয়ারম্যান সেলিমা বেগম বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আঞ্চলিকভাবে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারবে। পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।




















