ঢাকা ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়ান রিকেলটন: চুপচাপ যে ছেলেটা প্রমাণ করে দিল, ক্লাসই সব কিছু

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 97
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সব খেলোয়াড়ের জন্য মাঠে নামাটা একরকম হয় না। কেউ নামে গ্যালারির শোরগোলের মাঝখানে, কেউ নামে প্রমাণ করার দায়িত্ব নিয়ে। রায়ান রিকেলটন সেই দ্বিতীয় দলটার মানুষ। মুখে না বলে, ব্যাটেই কথা বলেন। আর আজকের ইনিংস? এক কথায় বলতে গেলে — শিল্প।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই বাঁহাতি ওপেনার যখন মাঠে নামলেন, তখন চারপাশে খুব একটা আলোচনা ছিল না তাঁকে নিয়ে। কিন্তু প্রথম তিন-চার ওভার যেত না যেত, বোঝা গেল আজ অন্য কিছু হতে চলেছে। চোখে ঠান্ডা ধৈর্য, পায়ে নিখুঁত ফুটওয়ার্ক, আর ব্যাটে ছিল যেন কবিতার ছন্দ।

ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে সময় নিয়ে খেললেন, শর্ট বলগুলো স্কয়ার লেগে ঠেলে দিলেন ঠাণ্ডা মাথায়, আর স্পিনার আসতেই এগিয়ে এসে ছক্কা! একটা ছক্কা মারলেন এমন স্টেপ আউট করে — যেন বলে দিলেন, “আমি এখানে কেবল টিকে থাকতে আসিনি, খেলতে এসেছি।”

এমন কোনও অতি নাটকীয় উদযাপন নেই, হাই ফাইভ নেই, কিন্তু ইনিংস শেষে যখন স্কোরবোর্ড বলল “রিকেলটন ৭৮* (৫০)”, তখন বুঝে গেলাম — এটাই সত্যিকারের ক্লাস। অনেকেই হয়তো এখনও এই নামটা ঠিক মনে রাখেননি, কিন্তু যারা আজকের খেলা দেখেছেন, তারা জানেন — এই ছেলেটা আলাদা।

তারপর ভাবতে ভালোই লাগে, এই মানুষটা শুধু ক্রিকেটারই নন, একজন চিকিৎসকও! মাঠে প্রতিপক্ষকে শাসাচ্ছেন, আর মাঠের বাইরে মানুষ বাঁচাচ্ছেন — এমন খেলোয়াড় বেশি দেখা যায় না।

রিকেলটনের মতো মানুষদের দেখে মনে হয়, ক্রিকেট আসলে কেবল রানের খেলা নয় — এটা নীরব লড়াই, ধৈর্য আর নিজের প্রতি বিশ্বাসের একটা গল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রায়ান রিকেলটন: চুপচাপ যে ছেলেটা প্রমাণ করে দিল, ক্লাসই সব কিছু

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

সব খেলোয়াড়ের জন্য মাঠে নামাটা একরকম হয় না। কেউ নামে গ্যালারির শোরগোলের মাঝখানে, কেউ নামে প্রমাণ করার দায়িত্ব নিয়ে। রায়ান রিকেলটন সেই দ্বিতীয় দলটার মানুষ। মুখে না বলে, ব্যাটেই কথা বলেন। আর আজকের ইনিংস? এক কথায় বলতে গেলে — শিল্প।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই বাঁহাতি ওপেনার যখন মাঠে নামলেন, তখন চারপাশে খুব একটা আলোচনা ছিল না তাঁকে নিয়ে। কিন্তু প্রথম তিন-চার ওভার যেত না যেত, বোঝা গেল আজ অন্য কিছু হতে চলেছে। চোখে ঠান্ডা ধৈর্য, পায়ে নিখুঁত ফুটওয়ার্ক, আর ব্যাটে ছিল যেন কবিতার ছন্দ।

ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে সময় নিয়ে খেললেন, শর্ট বলগুলো স্কয়ার লেগে ঠেলে দিলেন ঠাণ্ডা মাথায়, আর স্পিনার আসতেই এগিয়ে এসে ছক্কা! একটা ছক্কা মারলেন এমন স্টেপ আউট করে — যেন বলে দিলেন, “আমি এখানে কেবল টিকে থাকতে আসিনি, খেলতে এসেছি।”

এমন কোনও অতি নাটকীয় উদযাপন নেই, হাই ফাইভ নেই, কিন্তু ইনিংস শেষে যখন স্কোরবোর্ড বলল “রিকেলটন ৭৮* (৫০)”, তখন বুঝে গেলাম — এটাই সত্যিকারের ক্লাস। অনেকেই হয়তো এখনও এই নামটা ঠিক মনে রাখেননি, কিন্তু যারা আজকের খেলা দেখেছেন, তারা জানেন — এই ছেলেটা আলাদা।

তারপর ভাবতে ভালোই লাগে, এই মানুষটা শুধু ক্রিকেটারই নন, একজন চিকিৎসকও! মাঠে প্রতিপক্ষকে শাসাচ্ছেন, আর মাঠের বাইরে মানুষ বাঁচাচ্ছেন — এমন খেলোয়াড় বেশি দেখা যায় না।

রিকেলটনের মতো মানুষদের দেখে মনে হয়, ক্রিকেট আসলে কেবল রানের খেলা নয় — এটা নীরব লড়াই, ধৈর্য আর নিজের প্রতি বিশ্বাসের একটা গল্প।