ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাগরের পাশে মানবিক সহায়তা: হুইলচেয়ার দিচ্ছেন সালাউদ্দিন তিতু ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত অন্তত ৭ কাজ নেই, বিল আছে: হালুয়াঘাটে ৬০ লাখ টাকার সংস্কার রহস্যে ছয় ইউপি খাবারে ভেজাল আছে কি না, এবার মুহূর্তেই মিলবে উত্তর ‘শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করছেন কেন?’—জামায়াতকে রিজভীর প্রশ্ন বিদেশ পাঠানোর নামে ৪০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ, উল্টো মামলার আসামি বিধবা নারী আইজিপির সঙ্গে আইসিআরসি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইজিপির সঙ্গে এফবিআই প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ময়মনসিংহে ডিবির অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিদ্যুৎ শাখার কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি দিলেন মসিক প্রশাসক

কাজ নেই, বিল আছে: হালুয়াঘাটে ৬০ লাখ টাকার সংস্কার রহস্যে ছয় ইউপি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 11
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:ময়মনসিংহ।

কাগজে-কলমে সংস্কার শেষ, বাস্তবে ভবন ভাঙাচোরা এমনই চিত্র ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায়। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের নামে বরাদ্দ ৬০ লাখ টাকা ঘিরে উঠেছে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো কাজের অস্তিত্ব না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে তাহলে টাকা গেল কোথায়?

উপজেলার ধারা, ধুরাইল, কৈচাপুর, গাজিরভিটা, স্বদেশী ও জুগলী এই ছয় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রতিটিতে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

নিয়ম অনুযায়ী জুনের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা। কাজ না হলে বরাদ্দের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে—না হয়েছে কাজ, না ফেরত গেছে টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উল্লেখিত ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর ভবনের দেয়ালে পলেস্তার খসে পড়ছে, বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। শৌচাগারগুলো অচল, পানির লাইন অকেজো। সংস্কারের কোনো চিহ্ন নেই।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের অনেকেই জানেন না এমন কোনো বরাদ্দের কথা। ধারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বলেন, “সংস্কারের কোনো বরাদ্দ হয়েছে—এমন কিছু জানি না। কোনো কাজও চোখে পড়েনি। যদি টাকা তুলে নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অন্যায়। দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত।”

কৈচাপুর ইউনিয়নে বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে পাওয়া না গেলেও হিসাব সহকারী শফিকুর রহমান জানান, “এই অর্থবছরে কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।” গাজিরভিটার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথও একই তথ্য নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো বলছে, বরাদ্দকৃত ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের কার্যালয়ে গেলে প্রথমে তিনি কথা বলতে অনাগ্রহ দেখান। পরে তিনি জানান, বর্ষাকালের কারণে সংস্কার কাজ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে টাকা ‘পে-অর্ডার’ করে রাখা হয়েছে। “সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে এবং ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।”

একই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং মাঠে কাজের কোনো প্রমাণ না থাকায় পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কাজ নেই, বিল আছে: হালুয়াঘাটে ৬০ লাখ টাকার সংস্কার রহস্যে ছয় ইউপি

আপডেট সময় : ০৩:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:ময়মনসিংহ।

কাগজে-কলমে সংস্কার শেষ, বাস্তবে ভবন ভাঙাচোরা এমনই চিত্র ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায়। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের নামে বরাদ্দ ৬০ লাখ টাকা ঘিরে উঠেছে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো কাজের অস্তিত্ব না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে তাহলে টাকা গেল কোথায়?

উপজেলার ধারা, ধুরাইল, কৈচাপুর, গাজিরভিটা, স্বদেশী ও জুগলী এই ছয় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রতিটিতে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

নিয়ম অনুযায়ী জুনের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা। কাজ না হলে বরাদ্দের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে—না হয়েছে কাজ, না ফেরত গেছে টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উল্লেখিত ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর ভবনের দেয়ালে পলেস্তার খসে পড়ছে, বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। শৌচাগারগুলো অচল, পানির লাইন অকেজো। সংস্কারের কোনো চিহ্ন নেই।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের অনেকেই জানেন না এমন কোনো বরাদ্দের কথা। ধারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বলেন, “সংস্কারের কোনো বরাদ্দ হয়েছে—এমন কিছু জানি না। কোনো কাজও চোখে পড়েনি। যদি টাকা তুলে নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অন্যায়। দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত।”

কৈচাপুর ইউনিয়নে বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে পাওয়া না গেলেও হিসাব সহকারী শফিকুর রহমান জানান, “এই অর্থবছরে কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।” গাজিরভিটার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথও একই তথ্য নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো বলছে, বরাদ্দকৃত ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের কার্যালয়ে গেলে প্রথমে তিনি কথা বলতে অনাগ্রহ দেখান। পরে তিনি জানান, বর্ষাকালের কারণে সংস্কার কাজ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে টাকা ‘পে-অর্ডার’ করে রাখা হয়েছে। “সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে এবং ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।”

একই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং মাঠে কাজের কোনো প্রমাণ না থাকায় পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।