ময়মনসিংহে ‘হার ভোট,হার সিট’ ক্যাম্পেইন
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 19
দেশে নারী ভোটারের সংখ্যা মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। ভোটাধিকার প্রয়োগে নারীর অংশগ্রহণও দিন দিন বাড়ছে। তবে ভোটের মাঠে সক্রিয় নারীদের বড় অংশই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছেন না। নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সরাসরি রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও নেতৃত্ব বিকাশে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হার ভোট হার সিট’ ক্যাম্পেইনের জেলা পর্যায়ের মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন।
শনিবার (৮ আগস্ট) ময়মনসিংহ নগরীর একটি মিলনায়তনে Welfare Association for Development Alternative (WADA) ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন,নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের জায়গায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নারীর রাজনৈতিক ভূমিকা গণমাধ্যমে কীভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, সেটিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালায় মূল বক্তা ও প্রশিক্ষক হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ বেতার ময়মনসিংহের সংবাদ পাঠক ও উপস্থাপক কৃষিবিদ নাদিরা জান্নাত রাখি এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের প্রতিনিধি মোসাদ্দেক হোসেন। তাঁরা গণমাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সংবাদ ও কনটেন্ট তৈরিতে জেন্ডার-সংবেদনশীলতা, নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক ভাষা পরিহার, অনলাইন নিরাপত্তা এবং অপতথ্য মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ নারী হলেও নীতি-নির্ধারণী আসন ও সরাসরি রাজনৈতিক নেতৃত্বে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব ২ দশমিক ৩৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ। নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পথে থাকা সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও দৃশ্যমান-অদৃশ্য বাধাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরিই ‘হার ভোট হার সিট’ ক্যাম্পেইনের অন্যতম লক্ষ্য।
মিডিয়া ওরিয়েন্টেশনে ময়মনসিংহ বিভাগের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন। পাশাপাশি শিক্ষক, সাংবাদিক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ইয়ুথ অ্যাক্টিভিস্ট, স্বেচ্ছাসেবক,নাট্যকর্মী ও গ্রাফিতি আর্টিস্টরা অংশ নিয়ে নারীর রাজনৈতিক অধিকার, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সকালের অধিবেশনে রেজিস্ট্রেশন ও প্রকল্পের ব্রিফিংয়ের পর নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বেসলাইন তথ্য উপস্থাপন করা হয়। পরে ক্যাম্পেইন কৌশল, জেন্ডার-সংবেদনশীল স্টোরিটেলিং, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং অপতথ্য শনাক্ত ও মোকাবিলার কৌশল নিয়ে দলগত অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়।
দিনের শেষভাগে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা গণমাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান করা, ইতিবাচক ও তথ্যভিত্তিক গল্প তৈরি এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। আলোচনার মধ্য দিয়ে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও নেতৃত্ব বিকাশে গণমাধ্যমের করণীয় এবং আগামী দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়।
















