শরীরে ময়লা ছিটিয়ে অভিনব কায়দায় ৪ লাখ টাকা চুরির রহস্য উদঘাটন, ২ বছর পর পিবিআইয়ের গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৩:২২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
- / 218
ময়মনসিংহ নগরীর ছোট বাজার এলাকায় জনসম্মুখে অভিনব কৌশলে সংঘটিত ৪ লাখ টাকা চুরির ঘটনার প্রায় দুই বছর পর অবশেষে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহ। রাজধানীর চকবাজার এলাকা থেকে মোঃ হান্নান মিয়া (পিতা: মৃত আলী মিয়া, থানা: কোতোয়ালী, ঢাকা) নামের এক চোরকে গত ২৯ জুলাই গ্রেফতার করে সংস্থাটি।
পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার জানান, ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর ছোট বাজার এলাকায় শামছুল আলম নামক এক ব্যক্তি পূবালী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে একই এলাকার জনতা ব্যাংকে লেনদেন শেষে ৪ লাখ টাকা নিয়ে লিমা প্রিন্টিং প্রেসের সামনে আসলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার গায়ে ময়লা ছিটিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে একজন বলে ওঠে, “আপনার কাপড়ে ময়লা কিসের?” বিষয়টি খেয়াল করতে গিয়ে শামছুল আলম তার ব্যাগটি পাশে রেখে জামাকাপড় পরিষ্কার করতে থাকেন। এই সুযোগে অপরাধীরা তার ব্যাগসহ ৪ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
উপায়ান্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী শামছুল আলম কোতোয়ালী মডেল থানায় ৩৭৯ ধারায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা (নং-৪৫(১১)২২) দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে কোতোয়ালী থানা পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই ময়মনসিংহ গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার জানান, মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইয়ের এসআই মোঃ বিল্লাল মিয়াকে। অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তারের দিকনির্দেশনায় একটি বিশেষায়িত টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
সেই টিম দীর্ঘ দুই বছর ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোরের চেহারা শনাক্ত করে। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইয়ের আভিযানিক দল ২৯ জুলাই রাতে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোড, চকবাজার এলাকা থেকে মোঃ হান্নানকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে হান্নান ৪ লাখ টাকা চুরির বিষয়টি স্বীকার করে। পরদিন ৩০ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই পুলিশ সুপার আরও বলেন, “প্রকাশ্যে জনাকীর্ণ এলাকায় সংঘটিত অভিনব কৌশলের এ চুরির সিসিটিভি ফুটেজ ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে প্রকৃত চোরকে শনাক্ত৩ করা কঠিন ছিল। দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে আমরা এই চক্রের এক সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি।”
এই ঘটনায় চুরি হওয়া টাকার ভাগ-বাটোয়ারা ও অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে বলেও জানিয়েছে পিবিআই।


























