ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

ফিলিপাইনে বেড়েই চলেছে নিহতের সংখ্যা, পানি-বিদ্যুতের তীব্র সংকট

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 109
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে রাতের আঁধারে আঘাত হানা ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ জনে। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতা চলছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

যদিও উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহ পুনরায় সচল করতে কাজ শুরু করেছে সরকারি সংস্থাগুলো। বুধবার (১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

এর আগে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টার দিকে সেবু প্রদেশের উপকূলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূকম্পন কেন্দ্রের কাছাকাছি বোগো শহরের হাসপাতাল এখন রোগীতে উপচে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা রাফি আলেহান্দ্রো।

সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের আঞ্চলিক তথ্য কর্মকর্তা জেন আবাপো বলেন, নিহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ৬৯ হলেও তা এখনো যাচাই-বাছাই চলছে। আহত হয়েছেন আরও দেড় শতাধিক মানুষ।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ফার্ডিনান্ড মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরাসরি ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি শোকও জানিয়েছেন তিনি।

রয়টার্স বলছে, ফিলিপাইনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সেবুতে ৩৪ লাখ মানুষ বসবাস করেন। ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও দেশের দ্বিতীয় ব্যস্ততম ম্যাকতান-সেবু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সচল রয়েছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হচ্ছে সান রেমিজিও। এই শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের সহকারী মেয়র আলফি রেইনেস জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে, বিদ্যুৎ নেই, আর পানির সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র সংকটে পড়েছে মানুষ। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য, পানি ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে পিলার শহরের বাসিন্দা আর্চেল কোরাজা জানান, ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় তার পরিবারের সবাই ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড কাঁপুনি শুরু হলে তিনি পরিবারকে নিয়ে দ্রুত রাস্তায় বেরিয়ে যান। কোরাজা বলেন, ভূমিকম্পের পর তিনি দেখেন, সাগরের পানি তীর থেকে সরে যাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসছে এবং ভবন ধসে পড়ছে। এমনকি শতবর্ষী একটি গির্জাও ভেঙে পড়েছে। রেইনেস জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সান রেমিজিওর একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে বাস্কেটবল খেলছিলেন। ভূমিকম্পে ওই ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলছে, সর্বশেষ এই কম্পনের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। এরপর একাধিক আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৬। তবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়শই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই দেশটিতে দুটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল, যদিও তাতে কেউ নিহত হয়নি। এর আগে ২০২৩ সালে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফিলিপাইনে বেড়েই চলেছে নিহতের সংখ্যা, পানি-বিদ্যুতের তীব্র সংকট

আপডেট সময় : ০৮:১৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে রাতের আঁধারে আঘাত হানা ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ জনে। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতা চলছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

যদিও উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহ পুনরায় সচল করতে কাজ শুরু করেছে সরকারি সংস্থাগুলো। বুধবার (১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

এর আগে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টার দিকে সেবু প্রদেশের উপকূলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূকম্পন কেন্দ্রের কাছাকাছি বোগো শহরের হাসপাতাল এখন রোগীতে উপচে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা রাফি আলেহান্দ্রো।

সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের আঞ্চলিক তথ্য কর্মকর্তা জেন আবাপো বলেন, নিহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ৬৯ হলেও তা এখনো যাচাই-বাছাই চলছে। আহত হয়েছেন আরও দেড় শতাধিক মানুষ।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ফার্ডিনান্ড মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরাসরি ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি শোকও জানিয়েছেন তিনি।

রয়টার্স বলছে, ফিলিপাইনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সেবুতে ৩৪ লাখ মানুষ বসবাস করেন। ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও দেশের দ্বিতীয় ব্যস্ততম ম্যাকতান-সেবু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সচল রয়েছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হচ্ছে সান রেমিজিও। এই শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের সহকারী মেয়র আলফি রেইনেস জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে, বিদ্যুৎ নেই, আর পানির সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র সংকটে পড়েছে মানুষ। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য, পানি ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে পিলার শহরের বাসিন্দা আর্চেল কোরাজা জানান, ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় তার পরিবারের সবাই ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড কাঁপুনি শুরু হলে তিনি পরিবারকে নিয়ে দ্রুত রাস্তায় বেরিয়ে যান। কোরাজা বলেন, ভূমিকম্পের পর তিনি দেখেন, সাগরের পানি তীর থেকে সরে যাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসছে এবং ভবন ধসে পড়ছে। এমনকি শতবর্ষী একটি গির্জাও ভেঙে পড়েছে। রেইনেস জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সান রেমিজিওর একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে বাস্কেটবল খেলছিলেন। ভূমিকম্পে ওই ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলছে, সর্বশেষ এই কম্পনের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। এরপর একাধিক আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৬। তবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়শই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই দেশটিতে দুটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল, যদিও তাতে কেউ নিহত হয়নি। এর আগে ২০২৩ সালে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়।